তিন স্ত্রী, বহুতল ভবন, কোটি টাকার সম্পদ: রাজউকের উচ্চমান সহকারী জাফর ছাদেকের দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর কাহিনি দেশবাসীর অজানাই রয়ে গেছে

আতিকুর রহমান আতিক প্রতিনিধি।

পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে এবং দৈনিকের মফস্বল সম্পাদক বলেন রাজউক থেকে আমাদের অর্থনৈতিক সহায়তা করেন ও বিজ্ঞাপন দেন। এমনকি আমাদের বিনোদন পিকনিকের জন্য জাফর আমাদের দুই লক্ষ টাকা দিয়েছে তাই আমরা এই সংবাদ প্রকাশ করবো না। একজন ভুক্তভোগী সচেতন নাগরিক হতবাক হয়ে যান এবং তারা মনে করেন অর্থের বিনিময়ে কি সাংবাদিকেরা বিক্রি হয়ে যায় এ কথাতো কখনো শুনিনি। এ লজ্জা রাখবো কোথায়? তাই কথা আছে সত্যের ঢোল বাতাসে বাজে। যত কাহিনি করুক না কেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। শুটকি গন্ধ করে তাই এদেরকে সাংবাদিক বলা যায় না এরা জাতির কলঙ্ক এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।

দেশের জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টাল এবং বেসরকারি চ্যানেল তালাশে প্রকাশিত হলেও সরকার বাহাদুরের পক্ষে এই দুর্নীতিবাজ জাফরের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হয় নাই। তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্তবর্তী সরকার প্রধানের কাছে রাজউক এর বিশেষ তথ্য প্রদানকারী জোর দাবী জানিয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উচ্চমান সহকারী মো. জাফর সাদিক–এর বিপুল সম্পদ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক দখলের চেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা গণমাধ্যম ও দুদকের নজরে এসেছে। রাজউকের অভ্যন্তরে তার পরিচিতি “পীর সাহেব” হিসেবে, পদ মর্যাদায় নীচু হলেও তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ও ধনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাফর সাদিকের তিন স্ত্রী থাকেন তিনটি আলাদা বাড়িতে। তাদের নামে ও জাফর সাদিকের নামে রয়েছে বনশ্রী আবাসিক এলাকায় ১০ তলা ভবনের দুটি বাড়ি, শান্তিনগরের মেহমান টাওয়ারে ফ্ল্যাট, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১০টিরও বেশি ফ্ল্যাট, এছাড়া গাজী ভবনের ২য় তলায় চারটি দোকান। পরিবারের ব্যবহারের জন্য রয়েছে একাধিক প্রাডো ও বিএমডব্লিউ গাড়ি, যা সাধারণ একজন নিম্নবেতনভোগী সরকারি কর্মচারীর জন্য অচিন্তনীয়।

জাফর সাদিকের রাজনৈতিক কূটনীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারও সমানভাবে উদ্বেগজনক। তিনি অতীতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক দলের পদ-পদবি অর্জনের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ আছে, শ্রমিক লীগের সব ধরনের কর্মসূচির অর্থ যোগানদাতা তিনি। সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা বিধি এবং শর্তাবলীর পরিপন্থী এই কর্মকাণ্ডের ফলে তার চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে। আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে তার কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধের শামিল।

দুদক আইন ২০০৪ (ধারা ২৬/২৭) অনুযায়ী, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও লুকানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা রয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ (ধারা ৪০৯) অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুসারে অবৈধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করলে ৭–১২ বছর কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (ধারা ৪২/৪৩) অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তার চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল এবং ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীর নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং রাজনৈতিক প্রভাব—রাজউকের ভেতরে দুর্নীতির গভীরতা প্রমাণ করছে।

জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সম্পদের উৎস তদন্ত, ব্যাংক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সম্পদ জব্দ, বিদেশ যাত্রা নিষেধাজ্ঞা এবং সমন্বিত তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি। দুদক ও রাজউকের অভ্যন্তরে এখনও অনেক নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা এই ধরনের অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। জনসাধারণের নিরাপত্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং সমাজে ন্যায়ের রক্ষা করার জন্য এই ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মো. জাফর সাদিকের মতো ব্যক্তিদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনা না হলে, ভবিষ্যতে আরও গভীরভাবে প্রশাসনিক দুর্নীতি বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ বিষয়ে জাফরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন আল্লাহ যা দিয়েছে তা আমার শ্রমের ফসল। অপরদিকে দৈনিকের প্রতিনিধি বলেছেন এই জাফরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা অভিযোগ হলেও এখনও ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে না। এর পেছনে কারণ হলো রাঘব বোয়ালেরা জড়িত আছে।