রংপুর সদরের সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্পে ইউএনও ও জেলা ত্রান কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতি। সাংবাদিককে মিথ্যা মামলার হুমকি। এলাকাবাসীর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি।

আতিকুর রহমান আতিক প্রতিনিধি:-

রংপুর জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া দুর্নীতির অপকর্ম ঢাকতে এটিএন বাংলার রংপুরের পীরগঞ্জের ছেলে কেরামত আলী বিপ্লব এর নাম ভাঙ্গিয়ে সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিককে হুমকি প্রদান করেন। রংপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০০ কম্বল সন্যাসি দীঘির অতিদরিদ্র গুচ্ছগ্রামে বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে ভাওতামি ও প্রতারণা করেছেন জেলা ত্রান কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া।

গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিনিধি আতিকুর রহমান আতিক ও বাম নেতা কম্বলের জন্য রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান এর নিকট একটি লিখিত আবেদন করলে তিনি কিছু কম্বল বরাদ্দ করেন। অথচ সেই কম্বল আত্মসাৎ করেছেন কিনা রহস্যের দানা বাঁধছে। পরবর্তীতে কাচারী বাজার ক্ষুদ্র ফুটপাত ফল ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান ও  সাধারণ সম্পাদক ওলিয়ার রহমান ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা রংপুরের বরেন্য ব্যক্তিত্ব কমরেড আফজাল ও উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য পাচ’শ জন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করলে সেখানে ৫০০০ জন সদস্যর বিপরীতে রংপুর জেলা প্রশাসক নিজেই ২০০ কম্বল বিনয়ের সঙ্গে তার কাগজে লিখিতভাবে জেলা ত্রান কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়াকে আদেশ প্রদান করেন এবং জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখেই জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমাদের লোকজনসহ সন্যাসি দীঘির অতিদরিদ্রের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও দুর্নীতিবাজ টাউট নামে পরিচিত গোলাম কিবরিয়া কাগজপত্র গায়েব করে দিয়ে ৫০টি কম্বল দিতে চায়।

“উল্লেখ্য সংগঠনের লোকজনেরা সেখানে স্মারকলিপির কাগজপত্র চাইলে তিনি খুঁজে পান না। এমনকি সংগঠনের লোকজনকে মিথ্যুক হিসেবে আখ্যা দেন এবং তিনি বলেন জেলা প্রশাসকের ত্রান দপ্তর থেকে ১২০০০ কম্বলের মধ্যে ৯০০০ কম্বল ৮টি উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অপর ৩০০০ কম্বল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সাক্ষাৎকার জানতে চাইলে উপস্থিত সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিককে বলেন ৫০টি কম্বল নিয়ে যান প্রয়োজনে আমার পক্ষ থেকে আরও ৫০টি কম্বল দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন ৮টি উপজেলায় ইউএনও ত্রান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে কম্বল কিনে বিতরণ করার কথা আমাদের কাছে তথ্য আছে। অথচ তিনি বলেন আমি জানিনা এই কম্বল কেনা হয়েছে কিনা। এবং কাবিখা টিআর এর বরাদ্দ থেকে বিশেষ কিছু মাদ্রাসা মসজিদের বরাদ্দের নামে আত্মসাৎ করেছেন গোলাম কিবরিয়া। এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে নামকাওয়াস্তে তদন্ত করার নামে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন”।

এ বিষয়ে স্থানীয় পত্রিকা যুগের আলো টাকার বিনিময়ে সদর উপজেলার পক্ষে একটি নিউজ করে। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে জনতার সাথে প্রতারণা করেছেন সাইফুল ইসলাম। তার যোগদানের পর থেকে সদর উপজেলার হরিদেবপুর, মমিনপুর, খলেয়া, চন্দনপাট ও সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে শত শত অভিযোগ থাকলেও নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম নির্ভরযোগ্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো তদন্তের নামে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে বীরদর্পে চলাফেরা করার সুযোগ দিয়েছেন। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের কাবিখা কাজে ভেকু দিয়ে কাজ করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছেন।

১৭জন গ্রাম্য চৌকিদার নিয়োগে প্রতিজনের কাছে ৭ লক্ষ হিসেবে ১ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। স্থানীয় একজন অভিযোগ করেছেন উক্ত উপজেলার পিআইও মমিনুল হক ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ২০% টাকা আত্মসাৎ করে ৬৬ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়ী ক্রয় করেন।তার গ্রামের বাড়ী জয়পুরহাটের পল্লীগ্রামে। কোন দুর্নীতি করলে রংপুর মহানগরের যুবদলের জনৈক এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন।

এক মাস অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো জনগণকে তদন্ত করার কথা বলে সময় ক্ষেপন করছেন। অন্যদিকে মমিনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলামের বিভিন্ন অভিযোগ হলেও মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তাকে নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। একই কায়দায় চন্দনপাট  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সুযোগ সন্ধানি লোকদের বিএনপি সরকারের কতিপয় ব্যক্তিদেরকে বিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাগিয়ে দিয়েছে। এমনকি হরিদেবপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চান মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় কিছু নামধারী গণমাধ্যমকর্মীদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে অপকর্ম এবং দুর্নীতির বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আর অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে সময় ক্ষেপন করেন। মমিনপুর ইউনিয়নের নির্যাতিত বিএনপি’র ছাত্র নেতা তামিম ইকবাল জানায় বিধি লঙ্ঘন করে মমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেনকে ৩০০ কম্বল দিয়েছেন। ত্রান দপ্তর থেকে পিআইও গোপনে ১ম পর্যায়ে ৮২টি ও ৭০টি কম্বল কালো বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে পিআইও কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ী চালক মুকুল।

জনৈক কর্মচারী উক্ত পিআইও অফিসে নাম উল্লেখ করে মেরাজ বলেন প্রধান গেট তৈরি করতে ৯ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা বিল ভাউচার করেছেন অথচ এই গেট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। কোন টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা প্রকৌশলী ইউএনও সাইফুল ইসলাম ও ত্রান কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম এই কাজ করেন। এ কাজে ৬ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। সহকারী প্রকৌশলী পিআইও রেদোয়ান অফিস সহকারী মেনন কম্পিউটার অপারেটর সবুজ মিয়াদের নিম্নে ১৫০০ টাকা না দিলে কোন কাজই হয় না। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম কৌশলে এড়িয়ে যান। জেলা ত্রান কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে কাবিখা কাজ ভেকু দিয়ে কেন করা হচ্ছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন এটা আমার কাজ না জেলা প্রশাসকের কাজ।

আসল কথা হলো সেখান থেকে পিআইও এর মাধ্যমে তদন্তের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করেছে। এই গোলাম কিবরিয়া রংপুরের ৮টি উপজেলার পিআইও’র মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইতিপূর্বে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পিআইও হিসেবে থাকাকালীন সময় বিভিন্ন প্রকল্পের নাম করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সে বিষয়ে স্থানীয় থেকে জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। এত দুর্নীতি করার পরেও পদোন্নতি হয়ে বগুড়ায় ত্রান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সেই দুর্নীতিবাজ পিআইও রংপুর জেলা ত্রান কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনের নাম করে জেলা প্রশাসকের আদেশ থাকলেও সেখানে তিনি তোয়াক্কা না করে মিথ্যা কথা বলে সংগঠনের নেতাদের সাথে ভাওতামি করেন।

তাই তার বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য রংপুরের সাধারণ জনগণ জোর দাবী জানিয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং দেশের বিশেষ বাহিনীকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। রংপুরের সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে যত অভিযোগ ছয়কে নয়, নয়কে ছয় এবং ধর্মকে অপব্যবহারের নির্ভরযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেখানে ২০১৬ সালে উক্ত ইউনিয়নে ডাক্তারপাড়া মাঠে পাতা খেলার নামে কোরআন অবমাননা করা হয়েছিল। সেখানে এই খেলায় অনুমতি দিয়েছিল উক্ত ইউনিয়নের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান সোহেল রানা। সেখানে হাজার হাজার মুসল্লীরা প্রতিবাদ করেন এবং স্থানীয় কুড়িগ্রাম খবর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছিল আজকের দৈনিকের বিশেষ প্রতিনিধি আতিকুর রহমান আতিক। এরপর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মোট ৮১০ বস্তা চাল কালো বাজারে বিক্রি করে দেয়। প্রথমে এই পাচার হওয়া চাল দৈনিকের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে তৎকালীন জনৈক মহিলা সাংবাদিক মঞ্জিলা ভুইয়াসহ রংপুর ক্যাডেট কলেজ সামনে ২১ বস্তা চাল জনতা কর্তৃক আটক করে তাজহাট থানায় সোপর্দ করা হয়। কর্মরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিককে বাদ দিয়ে তার নিকটতম সঙ্গী আবুল হোসেনকে স্বাক্ষী করে মামলা রেকর্ড করেন।

পরবর্তীতে ঐ রাতেই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডে থাকাকালীন সময় সাংবাদিক আতিক দেশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাবের এসপি সার্কেল এমরানকে তথ্য প্রদান করলে ৭৮৯ বস্তা চালসহ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। সেখানে দেনদরবার করে উদ্ধার হতে পারেনি। পরবর্তীতে মামলাটি দুদকে চলে যায়। সেই ঘটনায় ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান আতিক আবেগকন্ঠে বলেছেন চাল উদ্ধার করলাম অথচ সেই মামলায় বাদী বা স্বাক্ষী কোনটাই করা হয়নি পুলিশ ঘাপলায়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে বিবাদী পক্ষ আদালতকে ভুল বুজিয়ে রফাদফার মাধ্যমে রংপুর আদালতে বুঝে ওঠার আগেই এই মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে আবু হোসেনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে স্বাক্ষ্য প্রদান করান। আবুল হোসেন রাষ্ট্রের পক্ষে সঠিক তথ্য প্রদান করলেও মামলাটি রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদীন থেকে ঝুলে আছে। সোহেল রানার বাবা বাবলু মিয়া তার বাসায় অবৈধ বাচ্চা প্রসব করার নাম করে গ্রামীন জনপদের দুস্থ মহিলাদের কাছে প্রতিটি সিজার বাবদ ৫০ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সদর উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এস্কভেটর মেশিন ভেকু দিয়ে। তদারকি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকায় প্রকল্পের সভাপতিরা কাবিখার চাল ও গম সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে ভেকু দিয়ে রাস্তার মাটি কাটার কাজ বাস্তবায়ন করছেন। এতে প্রকল্পের সভাপতি ও কাজ তদারকি কর্মকর্তারা লাভবান হলেও কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচীর আওতায় সদর উপজেলায় ৪নং সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে ঠাকুরের স্কুলের সামনে হতে হরেনের বাড়ি সামনে দিয়ে পালিচড়া গামি রাস্তা জগদিশের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে সাড়ে ১১ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে ৭.৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা আরেফা বেগম পাখি। একই ইউনিয়নের ‘ফাজিলখা মোশারফের তেপতি হতে পশ্চিম দিকে মানিকের জমি পর্যন্ত’ ৮০০ মিটার রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১১ মেট্রিকটন গম। এ প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন ৪.৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মাহবুবা খাতুন।

বিধি অনুযায়ী, এ সব প্রকল্প নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে দু’টি, প্রথমটি হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত্ব গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন করা। কিন্তু এই বিধি মানেননি ওই দুই প্রকল্পের সভাপতি।সরেজমিনে দেখা যায়, ‘ফাজিলখা মোশারফের তেপতি হতে পশ্চিম দিকে মানিকের জমি পর্যন্ত’ ৮০০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটা হয়েছে ভেকু দিয়ে। ভেকু দিয়ে ৩০ ঘন্টা কাজ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রতি ঘন্টা ভেকু নিয়েছে ১২০০ টাকা। সেই অনুযায়ী ৩০ ঘন্টা ভেকু মালিক পেয়েছেন ৩৬ হাজার টাকা। অথচ ওই প্রকল্পে বরাদ্দ সাড়ে ১১ মেট্রিকটন গম। যার বাজার মুল্য ৪ লাখ টাকার ওপরে। ঠিক একইভাবে ঠাকুরের স্কুলের সামনে হতে হরেনের বাড়ি সামনে দিয়ে পালিচড়া গামি রাস্তা জগদিশের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের নামে ভেকু দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভেকু দিয়ে এই প্রকল্পও বাস্তবায়ন করতে ৩০ থেকে ৩৫ ঘন্টা লেগেছে। এই প্রকল্পে সাড়ে ১১ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ভেকুর ৩০ ঘন্টা লেগেছে। এতে ভেকু মালিক পাবেন ৩৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বাকী প্রকল্পের টাকা সভাপতি ও কাজের তদারকি কর্মকর্তারা মিলেমিশে পকেটজাত করবেন। একটি প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্যা আরেফা বেগম পাখি বলেন, ‘শ্রমিক দিয়ে করি আর ভেকু  দিয়ে করি কাজ বাস্তবায়ন হলেই হলো। আপনারা দেখবেন কাজ।’ ভেকু দিয়ে কাজ করতে পারেন কি না-জানতে চাইলে আরেফা বেগম পাখি বলেন, ‘যেমন আইন আছে, তেমনি গাইনও আছে। অপর প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্যা মাহবুবা খাতুন বলেন, ‘কাজের অর্ধেক গম পেয়েছি। তা বিক্রি করে ভেকু দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভেকু দিয়ে কাজ করায় আমার প্রশংসা করেছেন পিআইও । তিনি আমাকে বলেছেন আপনার মত যদি সব প্রকল্পের সভাপতিরা এমন কাজ করতেন তাহলে কোনো প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতো না।’

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুমিনুর রহমান বলেন, ‘ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ করার বিষয়টি আমি জানি না। আমি তাঁর (মাহবুবা) প্রশংসা করার প্রশ্নই উঠে না।’ তবে তিনি বলেন, ‘ওই দুই প্রকল্পের অর্ধেক করে গম ও চাল ছাড় দিয়েছি। কাজ দেখে বাকী চাল ও গম ছাড় দেওয়া হবে। বিধি অনুযায়ী কাজ না হলে প্রকল্পের সভাপতিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ভেকু দিয়ে কাজ করার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কাবিখা প্রকল্প হচ্ছে, কাজের বিনিময় খাদ্য। এই প্রকল্পের চাল-গম বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। শ্রমিকরা কাজের বিনিময়ে চাল গম পাবেন। যদি ওই ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসককে সকল তথ্য ও অভিযোগ দাখিল করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তাই এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।